আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোট আয়োজনকে সামনে রেখে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত খাতে এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ব্যয় হতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যালট পেপার ছাপানো থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালন, নির্বাচন সামগ্রী পরিবহন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে।

কোথায় খরচ হবে যত টাকা

ইসি সূত্র জানায়, ব্যয়ের বড় অংশ যাবে—

সারাদেশে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনায়

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে

প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সম্মানী ও ভাতায়

ব্যালট পেপার, বাক্স ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম ছাপানো ও সরবরাহে

নির্বাচন সামগ্রী পরিবহন ও সংরক্ষণে

ইভিএম, সার্ভার, মনিটরিং সিস্টেম ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে

প্রযুক্তির ওপর জোর

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন চায়, ভোট গ্রহণ থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনতে। এ জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সিস্টেম, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং দ্রুত ফলাফল ঘোষণার ব্যবস্থায় বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থান

নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা খাতেই মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণভোট হলে বাড়বে ব্যয়

একইসঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ব্যয় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গণভোটের জন্য আলাদা করে ব্যালট, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও জনবল নিয়োগ করতে হবে। তবে কমিশনের মতে, গণভোট হলে তা জনগণের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ হবে।

রাজনৈতিক মহলের প্রত্যাশা

দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। তারা একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ব্যয় তখনই সার্থক হবে, যখন নির্বাচন নিয়ে কোনো পক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

বাজেট অনুমোদনের অপেক্ষা

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ব্যয়ের একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। এটি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর চূড়ান্ত বাজেট ঘোষণা করা হবে।

শেষ কথা

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় ও ব্যয়বহুল রাজনৈতিক কর্মসূচি। এখন দেখার বিষয়, এই বিপুল প্রস্তুতি ও ব্যয়ের মাধ্যমে জাতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পায়।

Share.
Leave A Reply