সম্প্রতি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ ঘোষণা দিয়েছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ (oath) এবং গঠন প্রক্রিয়া বৈধ।
⚖ সিদ্ধান্ত কী হয়েছে
ওই রায় ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগ “লিভ-টু-অ্যাপিল” (leave to appeal) — অর্থাৎ, হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করার আবেদন — খারিজ করেছে।
ফলে, আপিল বিভাগের কাছে আর কোনো আপিলযোগ্য প্রশ্ন রইল না। অর্থাৎ, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ এবং গঠনকে এখন সর্বোচ্চ আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে।
📄 প্রেক্ষাপট — কেন প্রশ্ন তোলে, এবং কেন আদালত মেনে নিয়েছে
২০২৪ সালের ৫–৬ আগস্টের জন আন্দোলনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ উভয়ই ছিল না।
সেই শূন্যতা (constitutional vacuum) পূরণের জন্য রাষ্ট্রপতি একটি “রেফারেন্স” (দৃষ্টান্ত / মতামত চাওয়া) পাঠান সুপ্রিম কোর্টের কাছে, সংবিধানের প্রবলন অনুচ্ছেদ ১০৬ (Article 106) অনুযায়ী।
আপিল বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চ (৭ বিচারপতি) শুনানি ও মতামত শেষে সিদ্ধান্ত দেয়, যে — এই “অন্তর্বর্তীকালীন (interim) সরকার” গঠন এবং তার শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সঠিক ও বৈধ। রাষ্ট্রে জরুরি পরিস্থিতিতে, ও সংসদ ও প্রধানমন্ত্রী উভয়ই না থাকার কারণে, রাষ্ট্রপতি আইনমতো কর্তব্য পালন করতে পারেন।
পরে, যারা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন (একজন সিনিয়র আইনজীবী), তাদের রিট — হাইকোর্টে এবং আপিলে — উভয়ই বাতিল করা হয়েছে।
🧑⚖ কী অর্থ হয়
এখন থেকে দৃষ্টিতে অন্তর্বর্তী সরকার (আয়ুনস–সরকার) “বৈধ সরকার” হিসেবে গণ্য।
এর মানে হলো — এই সরকার গঠনের সময়, শপথ সচিবতা and প্রক্রিয়া — কোনো আইনগত ভুল বা অগোছালোতা বিচার বিভাগ দেখেনি।
অতএব, সরকারের কোনো আইন, আদেশ বা নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে “শপথ অবৈধ ছিল” — এই যুক্তি আর গ্রহণযোগ্য নয়।

