ভূমিকম্পের উৎপত্তি — ঢাকা সহ বাংলাদেশের জন্য
সম্প্রতি ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে — নিচে হয়তো কেন এটি ঘটছে, তা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।—
১. ভূমিকম্প কোথায় এবং কীভাবে ঘটেছে
২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সকাল ১০:৩৮টায় (BST) নরসিংদি–মাধবদী এলাকায় ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল।
ভূমিকম্পের মাত্রা প্রাথমিকভাবে ~৫.৫–৫.৭ রিখটার (Mw 5.5–5.7) হিসেবে ধরা হয়েছে।
গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিমি — অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে এমন ভূমিকম্প যা “উপরিভাগীয়” (shallow) বলে বিবেচিত।
বিশেষভাবে উল্লেখ করলে, ভূমিকম্পটি একটি “ইনট্রাপ্লেট” (intraplate) ভূমিকম্প — অর্থাৎ এটি বড় একটি প্লেট সীমানায় না, বরং দেশের অভ্যন্তরে থাকা একটি ত্রুটি (fault) বা ক্রোমবিভাজনের কারণে ঘটে থাকতে পারে।
২. ভূমিকম্প উৎপত্তির কারণ
বাংলাদেশ মূলত তিনটি বড় ভূ–টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত: ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট ও বার্মা মাইক্রোপ্লেট।
এসব প্লেটের গতি ও সংমিশ্রণের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে এবং তা বার্মা মাইক্রোপ্লেটের নিচে বা পাশে চাপ প্রয়োগ করছে।
ঢাকার নিকটবর্তী এলাকায় যেমন মধুপুর ফল্ট বা অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ত্রুটি সক্রিয় থাকতে পারে। এই ধরনের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি ভূ–টেকটনিক সীমানায় না হলেও তথাকথিত “শ্যালো” ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া ঢাকার নিচের মাটি (গভীর সবuvial মাটি, পানিতে ভেজা মাটি) ভূমিকম্পের সময় দোলনের সময় বাড়িয়ে দিতে পারে (“সাইট অ্যাম্প্লিফিকেশন” নামে পরিচিত) — যা ঢাকায় ভূমিকম্প আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।
৩. ঢাকার জন্য বিশেষ বিপদ
ঢাকার বেশিরভাগ অংশে মাটি খুবই নরম ও পানিতে ভেজা, যা ভূমিকম্পের দোলনকে দীর্ঘ এবং বেশি অনুভূত করে তোলে।
অনেক ভবন পুরনো, নির্মাণ মান কম, এবং ভূমিকম্প-সহনশীল হিসেবে ঠিকভাবে ডিজাইন করা হয়নি — যা ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের ভূমিকম্প ‘সতর্কতা সংকেত’ হতে পারে — বড় মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য।
৪. আমাদের কি করণীয়?
ভূমিকম্পের সময় — দাঁড়ানো বা দৌড়ানোর বদলে একান্তভাবে নিরাপদ স্থানে (যেমন টেবিল / মেজে নিচে) থাকা ভালো।
উচ্চতলা ভবন, পুরনো ভবন হলে বিশেষ যতœ নেওয়া জরুরি।
ভবন নির্মাণের সময় ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা ও নিয়ম মানা অত্যাবশ্যক।
জরুরি যোগাযোগ, নিজেকে ও পরিবারের প্রস্তুত রাখা (জল, ফার্স্ট এইড, ইত্যাদি) ভালো হবে।
সংবাদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করা উচিত।
ভূমিকম্পের উৎপত্তি এবার ঢাকায়ভূমিকম্পের উৎপত্তি — ঢাকা সহ বাংলাদেশের জন্য
সম্প্রতি ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে — নিচে হয়তো কেন এটি ঘটছে, তা সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো।
✅ ঢাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি — বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন
১. ভূমিকম্প কোথায় ও কীভাবে ঘটল
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ঢাকার কাছে নরসিংদি–মাধবদী অঞ্চলে।
মাত্রা ছিল ৫.৫–৫.৭ রিখটার স্কেলে।
ভূমিকম্পটি ছিল শ্যালো (গভীরতা প্রায় ১০ কিমি) — shallow ভূমিকম্পে দোলন বেশি অনুভূত হয়।
এটিকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন “ইনট্রাপ্লেট ভূমিকম্প”, অর্থাৎ দেশের ভেতরের কোনো লুকানো বা কম-পরিচিত Fault Line নড়ে গেছে।
২. ভূমিকম্প কেন ঘটেছে — মূল বৈজ্ঞানিক কারণ
(ক) বাংলাদেশ তিনটি প্লেটের মিলনস্থলে
ইন্ডিয়ান প্লেট
ইউরেশিয়ান প্লেট
বার্মা মাইক্রোপ্লেট
এই অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে চাপযুক্ত active অঞ্চলের মধ্যে পড়ে।
(খ) ঢাকার কাছে সক্রিয় ফল্ট (Fault Line)
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
মধুপুর ফল্ট
ডাউকি ফল্ট
চট্টগ্রাম–ত্রিপুরা ফল্ট সিস্টেমএর মধ্যে মধুপুর ফল্ট ঢাকার একেবারে নিকটে। এর সামান্য নড়াচড়া ঢাকায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
(গ) প্লেটের ধাক্কায় জমা চাপ
ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর-পূর্ব দিকে ধাক্কা দিচ্ছে, ফলে ভূগর্ভে প্রচুর চাপ জমা হচ্ছে। কখনো কোনো দুর্বল অংশ ভেঙে গেলে ভূমিকম্প ঘটে।
৩. ঢাকায় ভূমিকম্প বেশি অনুভূত হওয়ার কারণ
(১) ঢাকার মাটি নরম ও পানিভর্তি
ঢাকার নিচের মাটি নদীভরাট (alluvial)। এতে ভূমিকম্পের তরঙ্গ ২–৩ গুণ বাড়ে (Site Amplification Effect)।
(২) ভবনের মান অনেক জায়গায় দুর্বল
পুরনো ভবন
কোড মানা হয়নি
ভুল ডিজাইন
এগুলো ঢাকাকে বিপজ্জনক করে তোলে।
(৩) জনঘনত্ব
বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটিতে ক্ষতির ঝুঁকি স্বভাবতই বেশি।
৪. এটি কি বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?
বিজ্ঞানীরা সাধারণভাবে বলেন:
অনেক সময় মাঝারি ছোট কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের আগে warning হিসেবে দেখা দিতে পারে,
আবার অনেক সময় এগুলোই accumulated stress কমিয়ে দেয়।
অর্থাৎ নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না, তবে ঢাকা বড় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা — এটা সত্য।
৫. করণীয় (বাস্তব ও জরুরি পরামর্শ)
ব্যক্তিগত প্রস্তুতি
জরুরি ব্যাগ রাখুন (জল, টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক, ওষুধ, ফার্স্ট এইড)।
ভূমিকম্পের সময় দৌড়াবেন না—মজবুত টেবিল/বিছানার নিচে আশ্রয় নিন।
লিফট ব্যবহার করবেন না।ভবনের নিরাপত্তা
নিজের ভবন ভূমিকম্প-সহনশীল কিনা তা ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে পরীক্ষা করান।
পুরনো বিল্ডিংয়ে রেট্রোফিটিং করা জরুরি।
সমষ্টিগত স্তরে
ঢাকায় Fault–Mapping জরুরি
বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে প্রয়োগ
জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা আপডেট করা প্রয়োজন।

